আমরা ইন্টারনেট বন্ধ করিনি : পলক
ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট, বঙ্গবন্ধু দৌহিত্র ও প্রধান্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫৩ তম জন্মদিনে শুরু হলো ‘শান্তির জন্য বৃক্ষ’ কর্মসূচি। জন্মদিন উপলক্ষে এক লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সেলক্ষ্যে বিটআরসি কম্পাউন্ডে বেশ কয়েকটি ও দেশজুড়ে বিস্তৃত ২০টি হাইটেক পার্কে রোপন করা হচ্ছে ২০ হাজার বৃক্ষ। ব্যক্তিগত ভাবে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিজেই ৫০ হাজার চারা লাগাবেন।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাক ভবন কম্পাউন্ডে প্রতীতি ১০টি ঔষধী গাছ লাগিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গাছ লাগানোর পর ভবনের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন, আমরা ইন্টারনেট শাটডাউন করিনি। ইন্টারনেট বন্ধ হয়েছিলো শুধু তিনটি ডেটা সেন্টার ও শত শত কিলোমিটার তার পুড়িয়ে দেয়ার জন্য। এজন্য শুধু টেলিকেম খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সব মিলিয়ে শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ডাক অধিপ্তরের মহাপরিচালক তরুণ কান্তি সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মোঃ সামসুল আরেফিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ সচিব ড. মুশফিকুর রহমান, ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এস এম শাহাব উদ্দিন, বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ, হাইইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএসএম জাফর উল্লাহম ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ঢাক বিভাগের ১৭টি জায়গায় হামলা হয়েছে। মহাখালীতে তিনটি ডেটা সেন্টারে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) ৭০ শতাংশ সার্ভার থাকে। দেশের ৩৪টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ের (আইআইজির) মধ্যে ১৮টির ডেটা এই তিনটি ডেটা সেন্টারে হোস্ট করা। দুই দিন পর তাঁরা জানতে পেরেছেন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের কাঁচপুরে সাবমেরিনের কিছু কেব্ল ওপরের দিকে ছিল, সেগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৭ জুলাই মধ্যরাত থেকে ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করায় দেশের মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। ব্রডব্যান্ড সংযোগ ২৩ জুলাই চালু হলেও মোবাইল ইন্টারনেট এখনো বন্ধ।
সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে তিন দিন সহিংসতা হয়েছে, ওই সময় দেশের চিহ্নিত কিছু জায়গা থেকে প্রায় এক লাখ সিম ঢাকা ও এর আশপাশে ঢুকেছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছেন, ২০১১, ২০১২, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি, জামায়াত, শিবির ও ছাত্রদল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিল। ওই সময় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, রংপুরের মিঠাপুকুর, নীলফামারী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরার ২০টি স্পটে রেড অ্যালার্ট জারি ছিল। কিন্তু ১৮, ১৯ ও ২০ জুলাই সেসব জায়গায় কোনো সহিংসতা হয়নি।

তিনি বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেসব এলাকার বিএনপি, ছাত্রদল, জামায়াত ও শিবিরের চিহ্নিত তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরা এ কয়েক দিন ঢাকামুখী ছিল। তাদের অবস্থান ছিল ঢাকার উত্তরা, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর এলাকায়।
শিগগরিই মোবাইল ইন্টারনেট খুলে দেয়া হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল সকাল ৯টায় আমরা এমটবের সঙ্গে বৈঠক করবো। বৈঠকে সন্তুষ্ট হলে রবি-সোমবার মোবাইলের ফোরজি নেটওয়ার্ক খুলে দেয়া হবে।
রেমিটেন্স পাঠানো বন্ধ হলেই যারা সরকার পতন হবে বলে মনে করেন তাদের উদ্দেশ্য করে পলক বলেন, এতে তাদের পরিবারই ক্ষতি হবে। এতে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাই নিজের ক্ষতি করে অন্যকে ঘায়েল করবেন না। অপপ্রচার চালাবেন না।
বক্তব্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দি আহমেদ বলেন, গত কয়েকদিনে বোঝা গেছে গত ১৫ বছরে কী পরিমান উন্নয়ন হয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতে। এই খাতে আঘাত আসায় এখনো কিছু ক্যাশ সার্ভার মেরামতের কাজ চলছে। হয়তো দুই চার দিনের মধ্যে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ফিরে আসবে। দেশে থাকা চার হাজারের ওপর ক্যাশ সার্ভার ঠিক হতে সময় লাগবে। গুগল এর সব ক্যাশ সার্ভার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।
আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ইন্টারনেট এখন আমাদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দুর্বৃত্তদের হামলায় মহাখালীতে সার্ভার ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন ছিলো। এই সেবা এখন ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে। শিগগিরই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। ৯০ শতাংশ সমস্যা রিস্টোর করা হয়েছে। বাকিটা নির্ভর করছে ট্রান্সমিশনের ওপর।
অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ওপর কয়েকটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। একইসঙ্গে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে টেলিকম খাতের ক্ষত পুষিয়ে নিতে যুথবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।







